এম. এ. আজিজ রাসেল;

উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাঙালি সনাতনী সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে সম্প্রীতির বন্ধনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দুর্গোৎসব। এ সময় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মাতৃবিদায়ের বিষাদপূর্ণ অশ্রুসিক্ত নয়নে সাগরের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।

প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সৈকতের বালিয়াড়িতে সব ধর্মের মানুষের সরব পদচারণায় তৈরি হয় সম্প্রীতির সেতুবন্ধন। আর এ বন্ধনে সবাই এক সুরে প্রত্যয় ঘোষণা করেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার।

বুধবার দুপুরে শহরের বার্মিজ মার্কেট থেকে প্রতিমা শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সৈকতের লাবণী পয়েন্টে এসে বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। প্রতিমা বিসর্জন দেখতে সৈকতের বালিয়াড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশাপাশি দুপুর থেকেই বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আসতে থাকেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন পর্যটকেরাও।

বেলা ৩টা থেকে জেলার রামু, উখিয়া, সদর উপজেলা, কক্সবাজার পৌর এলাকা ও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে প্রতিমা বহনকারী সারি সারি গাড়ি আসতে শুরু করে। গাড়ি থেকে প্রতিমা নামানোর পর আরতি ও আরাধনা শেষে স্ব স্ব মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় ঢোলের তালে তালে ‘মা দুর্গা কি জয়’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সমুদ্রসৈকত। প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি ভক্তদের নাচ-গানে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।

বিসর্জনকে ঘিরে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করেন। আয়োজকেরা জানান, সৈকতের এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ৩০০টির অধিক প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।

বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি সরকার কাজ করছে, যাতে সবার অধিকার নিশ্চিত হয়।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ও সত্যের আরাধনাই দুর্গোৎসবের বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ। প্রতিমা বিসর্জন উৎসবকে ঘিরে মানুষের সম্প্রীতি ও উচ্ছ্বাসের ঢেউই তার প্রমাণ। কক্সবাজার সৈকতের এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহামিলন উৎসব।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠুর সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশের সঞ্চালনায় বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমান ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সোমেশ্বর চক্রবর্তী, সাবেক পৌর মেয়র সরওয়ার কামাল, পৌর প্রশাসক শামীমুর রহমান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা, সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক দোলন চক্রবর্তী ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দোলন ধর।

বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর পাঠ করা হয় বিসর্জন মন্ত্র। মন্ত্র পাঠ শেষে একে একে সাগরে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা। এ সময় ভক্তদের হৃদয়ে বেজে ওঠে মায়ের বিদায়ের করুণ সুর।